মনের আশা পূরনের জন্য করনীয়

মনের জায়েজ চাওয়া পূরণ হওয়ার আমলঃ
আপনার মনের (জায়েজ) আশাগুলো পূরণ হওয়ার এক আশ্চর্য আমল হলো ইস্তেগফার (তাওবা) এর আমল।
১. চাকুরি হচ্ছেনা, ব্যবসার অবনতি হচ্ছে, বাড়িতে অশান্তি লেগেই আছে, বিয়ে হচ্ছেনা, বাচ্চা হচ্ছেনা, ফসল-ফলাদির ভালো ফলন হয়েও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, রিযিকের ব্যাপারে পেরেশানিতে ভুগছেন, বিপদ-আপদ, দুঃ খ-দুঃ চিন্তা, পেরেশানি লেগেই আছে, পার্থিব জীবনে সংকট কাটছেই না, এমতাবস্থায় করনীয় কি?
আপনার সব কিছুর সমাধান একটা আমলের মধ্যেই রয়েছে, তা হচ্ছে- ইস্তিগফারের আমল, ইস্তিগফারকে নিজের জীবনে আবশ্যক করে নিন, চলতে, ফিরতে, উঠতে, বসতে, ঘুরতে সব সময় ঠোঁটে ইস্তিগফারের আমল জারি রাখুন।
একটি হাদিসের সার সংক্ষেপ এরকম," যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জন্য আবশ্যক বানিয়ে নিবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য প্রতিটি সংকীর্ণ অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দিবেন, তার প্রতিটি উদ্বেগ-অস্থিরতা দূর করে দিবেন এবং তাকে কল্পনাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করবেন।"
হাসান আল বসরি রাহিমাহুল্লার বিখ্যাত সেই ঘটনা আমরা অনেকেই জানিঃ
"একবার হাসান বসরী রাহিমাহুল্লার কাছে এক ব্যক্তি জানালো “ আমার ফসলে খরা লেগেছে আমাকে আমল দিন” হাসান বসরী তাকে বললেন এস্তেগফার করো, কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে অভিযোগ পেশ করল “আমি গরীব আমাকে রিজক এর আমল দিন” হাসান বস্রী রাহিমাহুল্লাহ তাকেও বলেলন এস্তেগফার করো, এমনিভাবে অপর এক ব্যক্তি এসে সন্তান হওয়ার আমল চাইলে তিনি বললেন এস্তেগফার করো, ” উপস্থিত ছাত্ররা জিজ্ঞেস করলো হযরত আপনি “সবাইকে একই পরামর্শই দিলেন যে?” বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ বললেন “আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলি নি, এটা বরং আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনে শিখিয়েছেন।
তারপর তিনি সুরা নুহ এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৩০৩)
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
নুহ আলাইহিস সালাম বললেন “তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন, তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ- ১০-১২)"
ইস্তিগফার বা তাওবা কিভাবে করতে হয়ঃ
আল্লাহর কাছে নিজের জিবনের কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, পাপের জন্য লজ্জিত, অনুতপ্ত হওয়া, জীবনে আর কখনো এই সকল পাপ করবো না বলে আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করা, আন্তরিকভাবে ওইসব গুনাহ না করার জন্য নিয়ত করা।
আপনি অনবরত জবানে এস্তেগফার জারি রাখলেন কিন্ত সেই সাথেসাথে গুনাহের কাজও চালু রাখলেন, তাহলে আপনার তাওবা করা যথেষ্ট হলো না, জবানের সাথেসাথে কাজেও (গুনাহের কাজ ছেড়ে দিয়ে) তাওবার বাস্তবায়ন করতে হবে।
হাদিসে ইস্তিগফারের বেশ কিছু দু'আ এসেছে আমরা সেখান থেকে কয়েকটি ইস্তিগফারের দু'আ উল্লেখ করছি (আপনি যেকোনো একটি পড়তে পারেন)।
দোয়া-১:
মূল আরবীঃ
ﺃَﺳﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হ।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
প্রতি ওয়াক্তের ফরয সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। [মিশকাত-৯৬১]
দোয়া-২:
মূল আরবীঃ
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর দিকে ফিরে আসছি।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। [বুখারী-৬৩০৭]
দোয়া-৩:
মূল আরবীঃ
ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲْ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺇِﻧَّﻚَ
( ﺃﻧْﺖَ )
ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْﻢُ
( ﺍﻟﻐَﻔُﻮْﺭُ )
উচ্চারণঃ রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহীম। দ্বিতীয় বর্ণনয় “রাহীম”-এর বদলে: ‘গাফূর’।
অনুবাদঃ হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়। দ্বিতীয় বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। [আবূ দাঊদ-১৫১৬, ইবনু মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪, মিশকাত-২৩৫২]
দোয়া-৪:
মূল আরবীঃ
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
উচ্চারণঃ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি।
অনুবাদঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।
এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন-যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। [আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩]
দোয়া-৫:
ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দু'আঃ সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার:
মূল আরবীঃ
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা
অনুবাদঃ হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
যে বুক্তি সকাল, সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার অর্থ বুঝে, দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন কিংবা রাতে মারা গেলে অনবশ্যই জান্নাতে যাবে। [বুখারীঃ ৬৩০৬]...